Image
Image
Image
Image
Image
Image
Image
যোগাযোগ স্থাপন : চরবাসী এবং স্থানীয় বাজার পিডিএফ প্রিন্ট কর ইমেল

চরবাসীদের কাছে দরিদ্র্যতা কেবল আয়হীনতা নয়। বিভিন্ন সেবা খাত এবং বাজারে যাওয়ার সুবিধাও তাদের অত্যন্ত সীমিত। সম্পত্তি হস্তান্তর কর্মসূচী পরিচালনার পাশাপাশি সিএলপি গবাদি-পশুর সেবার পরিসর বাড়াতে এবং চরগুলোতে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবার বাজার তৈরিতে উৎসাহ প্রদান করে। তাতে স্বাস্হ্যবান গবাদিপশুসম্পদ সমৃদ্ধি লাভ করে এবং চরবাসীদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধি পায়।

 

গবাদিপশুর সেবা কর্মসূচী 

বাড়তি আয় এবং বিনিয়োগের জন্যে চরবাসীরা গবাদিপশু এবং হাঁস্তমুরগির ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল। সেজন্যে, ২০০৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ সিএলপি দক্ষ, স্বায়ত্বশাসিত গবাদিপশু সেবা দানকারী (এলএসপি) তৈরিতে সহায়তা প্রদান করতে শুরু করে। চর এলাকায় এলএসপি গুলো গবাদিপশু এবং হাঁস্তমুরগির খাতকে প্রশিক্ষণ, সরবরাহ এবং সুরক্ষা প্রদান করে। এরা পরিবারের গবাদিপশু উৎপাদন উন্নয়নের পাশাপাশি পশুদের খাদ্য এবং এদের ব্যবসা সম্পর্কে আলোচনা করে। বর্তমানে ৩৫০ জন চরবাসীকে এলএসপি হিসেবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

বাজার উন্নয়ন কর্মসূচী জোরদার করা

সিএলপি-র বাজার উন্নয়ন তহবিল কৃষি, গবাদিপশু, মৎসচাষ এবং অ-কৃষিজাত খাতে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের জন্যে প্রতিযোগিতামূলক অনুদান দিয়েছিল। প্রায় ৩০টি পরীক্ষামূলক প্রকল্প থেকে বর্তমানে তিনটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্পে বিকাশ লাভ করেছে।

প্রথম প্রকল্পটি হচ্ছে 'স্হানীয় বিভিন্ন উন্নত জাতের হাঁস্তমুরগি পালন প্রকল্প' যার উদ্দেশ্য হাঁস্তমুরগি পালন কৌশলের উন্নতি সাধন ক'রে হাঁস্তমুরগির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং হাঁস্তমুরগির মৃত্যুহার কমানো। এলএসপিদের দ্বারা বাস্তবায়নকৃত এই প্রকল্পে প্রায় ৩৪,০০০ পরিবার অংশগ্রহণ করেছে। পরিবারগুলোর জন্যে প্রশিক্ষণ, প্রতিষেধক এবং হাঁস্তমুরগি খাদ্য পাওয়ার ব্যবস্হা রয়েছে। চরবাসীদের জন্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নিয়মিত মূলধনের উৎসের ব্যবস্হা ক'রে দেয়ার জন্যে  হাঁস্তমুরগির স্বাস্হ্য এবং উৎপাদশীলতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয় যে প্রকল্পটি বিকাশ লাভ করেছিল তা হচ্ছে গবাদিপশু ব্যবস্হাপনা এবং দুগ্ধ বাজারজাতকরণ। এই প্রকল্পে এলএসপিরা বিভিন্ন সমিতি গঠন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দানের ক্ষেত্রে সহায়তা ক'রে থাকে। বৃহৎ তরল দুধ প্রক্রিয়াজাতকারীদের কাছে বাজারজাত করা দুধের পরিমাণ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। ক্ষুদ্র দুগ্ধ খামারিদেরকেও উৎসাহিত করা হয় যাতে তারা তাদের নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্হা অথবা স্হানীয় সংগ্রহকারীদের সঙ্গে দরকষাকষি বা আলাপ-আলোচনা করার জন্যে উপানুষ্ঠানিক দুগ্ধ বাজারজাতকারী সমবায় গড়ে তোলে। এধরনের সাধারণ সাংগঠনিক কৌশল বাজারজাতযোগ্য দুধের বিক্রি এবং সরবরাহ, দরকষাকষির ক্ষমতা এবং শেষ পর্যন্ত দুধের বিক্রি মূল্য বাড়াতে খুব কাজে দেয়। দুধের উৎপাদন এবং দুধের লৌহজাতীয় পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি, বিকল্প খাদ্য পুষ্টি এবং বাছুরের অপুষ্টি রোধে এলএসপি-রা প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে।

তৃতীয় প্রকল্পটি হচ্ছে বাণিজ্যিক পশুখাদ্য উৎপাদন, যার প্রধান উদ্দেশ্য মাঠ ফসল হিসেবে জাম্বো ঘাস বপন। স্বল্প বিনিয়োগ, উচ্চ বাজার মূল্য এবং সহজ বিক্রিয় যোগ্যতার বিচারে জাম্বো ঘাস একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প শস্য। এটি শুধু অংশগ্রহণকারী ৭,৫০০ পরিবারের আয় বৃদ্ধিই করেনি, সেই সঙ্গে চর এলাকার ক্রমবর্ধমান গবাদিপশু খাতের পশুখাদ্য মজুদের  নিশ্চয়তা বিধান করতে সাহায্য করেছে (বিশেষ করে, বন্যার সময়)।

ক্ষুদ্র ঋণপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধান করা

বৃহৎ জাতীয় ক্ষুদ্র ঋণপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফআই) সাধারণত চর এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার ঝুঁকি নেয়ার উৎসাহ দেখায় না। অন্যদিকে ক্ষুদ্রতর আঞ্চলিক এনজিওগুলোর লোকসানী শাখাগুলোকে ভর্তুকি দেয়ার সামর্থ থাকে না। সিএলপি'র চিহ্নিত জনগোষ্ঠীর জন্যে আরেক বাধা তাদের দারিদ্র্য-এমএফআইগুলো তাদের ঋণপ্রদানে উৎসাহী নয়, কারণ ঋণগ্রহনকারী হিসেবে তাদেরকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ এবং অলাভজনক বলে মনে করে; অন্যদিকে হতদরিদ্ররাও এমএফআইগুলোর কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করতে চায় না, কারণ সেসব ঋণ তাদের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

চর এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচী শক্তিশালী করার জন্যে সিএলপি ২০০৭ সালে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) -এর সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর  করে। চরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশকে এমএফআইগুলো সেবা দিয়ে থাকে। বর্তমানে চরাঞ্চলে এম এফআই-এর ১৩ টি শাখা রয়েছে, আশা করা হচ্ছে ২০০৯-এর জুন নাগাদ সংখ্যাটি বেড়ে ২০-এ গিয়ে দাঁড়াবে। কর্মসূচীর নানান কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে কর্মচারি প্রশিক্ষণ, নতুন পরীক্ষামূলক কর্মকান্ড এবং আইএমও আর পিকেএসএফ উভয়ের জন্যে শাখার অবস্হান সম্পর্কে ধারণা দেবার জন্যে জিআইএস ম্যাপিং।

ভিএসএলএ:  সঞ্চয়ের একটি নিরাপদ স্হানের ব্যবস্হা করা

সিএলপি ২০০৬ সাল থেকেই বাংলাদেশের জন্যে নতুন একটি বিষয় 'গ্রামীণ সঞ্চয় এবং ঋণ সমিতি' (ভিএসএলএ)  পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। এমএফআইগুলোর জন্যে যেখানে ব্যয় সংকুলান করা সম্ভব হয়  না এমন সব দরিদ্র ও দূরবর্তী এলাকায় ভিএস গুলো মৌলিক সঞ্চয় ও ঋণ সেবা দিয়ে থাকে। ভিএসএলএ প্রসারের জন্যে বর্তমানে সিএলপি-র ১০টি আইএমও কাজ ক'রে যাচ্ছে।

ভিএসএলএ হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ জন সঞ্চয়ীর একেকটি দল যারা তাদের সঞ্চয় একটি জায়গায় জড়ো করে এবং একে অন্যকে এক বছরের জন্যে চক্রাকারে ঋণ দেয়। একটি চক্র শেষ হতে সঞ্চয় এবং লাভ (সাধারণত যা ২৫ শতাংশ) তারা  ভাগ ক'রে নেয় এবং একটি নতুন চক্র শুরু হয়। পদ্ধতিটি এমনভাবে পরিকল্পিত হয়েছে যাতে তা নিরক্ষর সদস্যদের দলগুলোর জন্যে নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর হয় এবং এটিতে বেশ কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্হা যোগ করা হয়েছে যাতে সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় (এ-পর্যন্ত লোকসান ০.১ শতাংশ )। বেশিরভাগ সদস্যই বছরে ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা সঞ্চয় করে এবং ঋণদান কর্মকাণ্ড থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ লাভ করে। বর্তমানে ভিএসএলএ কর্মসূচীর সঙ্গে ২৪ হাজরেরও বেশি পরিবার যুক্ত রয়েছে।