সম্পদ হস্তান্তর কর্মসূচী (এটিপি) হচ্ছে সিএলপি'র প্রধান ভিত্তি, যার মূলে রয়েছে অন্ততপক্ষে ৫৫,০০০ হত দরিদ্র চরবাসী পরিবারের, যাদের মধ্যে এককালীন বিনিয়োগ মূলধন হস্তান্তর করা হয়। এই বিনিয়োজিত মূলধনের সুবিধাভোগীরা তারা নানান ধরনের আয়-সৃষ্টিকারী সম্পদ (আইজিএ) কেনেন, যাতে করে আরো দীর্ঘস্হায়ী জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্হা এবং পারিবারিক আয় নিশ্চিত করা যায়। এটিপি-র মাধ্যমে, এ-পর্যন্ত ১০৭,০০০ এইজিএ কেনার জন্যে প্রায় ৫০,০০০ চরবাসী হত দরিদ্র পরিবারের কাছে বিনিয়োগ মূলধন হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথমে কেবল তিনটি জেলায় পাঁচটি আইএমও-র মাধ্যমে কাজ করলেও, বর্তমান এটিপি পর্ব (চতুর্থ পর্ব) ১৮টি আইএমও-র মাধ্যমে সিএলপি-র কর্মপরিধির সব ক'টি জেলায় রয়েছে।
সম্পত্তি হস্তান্তর কর্মসূচী: পর্ব এবং তথ্যাবলী
গত তিন বছর ধরে চারটি পর্বে সিএলপি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এটিপি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও তা বিকাশের চেষ্টা করে যাচ্ছে । প্রথম এটিপি পর্বে ক্রমবর্ধমান হারে, প্রাথমিকভাবে ৩১৭৪টি পরিবারকে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছিল, তারপর থেকে যমুনার উত্তরাঞ্চলীয় পাঁচটি জেলার সবক'টিতেই ক্রমান্নয়ে সকল পরিবারকে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছে। যমুনার চরাঞ্চলে এটিপি'র ব্যপ্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে নিচের লিঙ্কগুলো দেখুন।
ATP Phase One
Dates:
January -- June 2006
Numbers:
3,174 Households
Districts:
Gaibandha, Sirajganj and Kurigram
Package:
Tk. 13,000 -- either fixed asset package, choice of assets or cash
ATP Phase Two
Dates:
November 2006 -- May 2007
Numbers:
8,246 Households
Districts:
Gaibandha, Sirajganj, Bogra, Jamalpur and Kurigram
Package:
Tk. 13,000 -- choice of assets
ATP Phase Three
Dates:
October 2007 -- May 2008
Numbers:
18,850 Households
Districts:
Gaibandha, Sirajganj, Bogra, Jamalpur and Kurigram
Package:
Tk. 15,000 -- choice of assets
ATP Phase Four
Dates:
August 2008 -- May 2009
Numbers:
24,730 Households
Districts:
Gaibandha, Sirajganj, Bogra, Jamalpur and Kurigram
Package:
Tk. 17,000 -- choice of assets
All ATP Phases
Dates:
January 2006 -- May 2009
Numbers:
55,000 Households
Districts:
Gaibandha, Sirajganj, Bogra, Jamalpur and Kurigram
সুবিধাভোগীদের স্বাধীনতা এবং তাদের জন্যে সহায়তা
প্রতিটা এটিপি পর্বের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে সুবিধাভোগীরা তিনটি ধাপে তাদের বিনিয়োগ মূলধন তুলে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই মূলধনের মোটামুটি ৯০ শতাংশ তাঁরা ব্যয় করেন গবাদি পশুর মতো বিশেষ কোনো সম্পদ কেনার কাজে, ৮ শতাংশ একই ধরনের তবে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি যেমন ভেড়া, ছাগল বা হাঁস্তমুরগি কেনার কাজে ব্যয় করে। বাকি ২ শতাংশ তারা নগদ টাকা হিসেবে নিয়ে থাকে, যা প্রায়ই গবাদি পশু রাখার ছাউনি নির্মাণের কাজে খরচ করা হয়। গবাদি পশুই সাধারণত পরিবারগুলোর প্রথম পছন্দ কারণ সেটাকে দূর বা নিকট ভবিষ্যতের জন্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্ধিত সম্পদের একটি ভিত্তি থেকে পরিবারগুলো নানানভাবেই উপকৃত হয় এবং গবাদি পশু ও হাঁস্তমুরগীর পণ্য তারা বিক্রি বা ভোগ করে থাকে।
সেবা প্রদান : জনগোষ্ঠীর সম্পত্তিরক্ষায় সহায়তা দান
সিএলপি-র ভূমিকা কেবল বিনিয়োগ মূলধন বিলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সম্পত্তি ক্রয়, পশুরোগ সংক্রান্ত সহায়তা এবং গবাদি পশুর উন্নত জাত সম্পর্কিত প্রশিক্ষণেও সিএলপি সহায়তা প্রদান করে থাকে। প্রাথমিক বিনিয়োগ মূলধন হস্তান্তরের পর ১৮ মাস ধরে সিএলপি আর্থিক সহায়তাও প্রদান করে থাকে। প্রায়ই চরাঞ্চলীয় অধিবাসীরা প্লাবন/বন্যা, পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের অসুস্হতা এবং কর্মসংস্হানের ঘাটতির মতো বিভিন্ন সঙ্কটে পড়ে থাকে । সম্পত্তি বিক্রির ঝুঁকি হ্রাস এবং উৎপাদনশীল না হওয়া পর্যন্ত গবাদিপশু গুলো বড় করার কাজে (যেমন, দুধের জন্যে যে গবাদি পশু পোষা হয় সেগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত দুধ দেয়ার মতো বড় হচ্ছে) সুবিধোভোগীদেরকে সহায়তা দান করার জন্যে পরিবারগুলোকে দেড় বছর ধরে প্রতিমাসে ৩৫০ টাকা হারে গবাদিপশু রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা এবং ২৫০ টাকা হারে ৬ মাস সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা প্রদান করা হয়।
এটিপি সহায়তা লাভকারী পরিবারগুলো যাতে স্বাস্হ্যকর এবং উৎপাদনক্ষম সম্পত্তি বজায় রাখতে পারে সেজন্যে দক্ষ কৃষিগত এবং পশু চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন। তবে চরগুলো অত্যন্ত দূরবর্তী হওয়ার কারণে সরকার, বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত খাতের নানান সহায়তা পাওয়া তাদের জন্যে অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এসব সেবার ব্যবস্হা করার জন্যে সিএলপি গত তিন বছরে ছয়শরও বেশি গো-উপচিকিৎসককে (প্যারাভেটকে) প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে সাড়ে তিনশ জনেরও বেশি লোককে এ পশুরোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, যাতে করে তারা চর অধিবাসীদেরকে দীর্ঘ মেয়াদী, মানসম্পন্ন সেবা প্রদান করতে পারে। ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাস পর্যন্ত এসব গো-উপচিকিৎসক (প্যারাভেটগণ) দশ লক্ষ গবাদি পশুকে প্রতিশেধক এবং কৃত্রিম গর্ভসঞ্চার করেছেন।
একটি ভাউচার স্কীমের মাধ্যমে সিএলপি গবাদি পশুর প্রতিশেধক, পোকামাকড়-মুক্তকরণ, কৃত্রিম গর্ভসঞ্চার ইত্যাদি পশুরোগ সংক্রান্ত সেবা পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে সুবিধেভোগীরা গো-উপচিকিৎসকের (প্যারাভেটদের) কাছ থেকে এসব অত্যাবশ্যকীয় সেবা গ্রহণের জন্যে সিএলপি প্রদত্ত ভাউচারের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে থাকে। ভাউচার স্কীমের মাধ্যমে এসব সেবার জন্যে অর্থায়ন করে সিএলপি স্হানীয় সেবা প্রদানকারী এবং বাজারকে উজ্জীবিত করতে চায়।
বসতভিটায় সবজি বাগান চাষঃ
সিএলপি'র সূচনাকাল থেকে, মূল সুবিধাভোগী ও তার বাইরের প্রায় ১৩০,০০০ পরিবার পারিবারিক উদ্যানপালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই কর্মসূচীর লক্ষ্য হচ্ছে চর অধিবাসীদের খাদ্যাভ্যাসের গুণগতমান বৃদ্ধি এবং তাদেরকে আয়ের বাড়তি উৎসের সন্ধান দেয়া। বসতভিটায় সবজি বাগান চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে সিএলপি বীজ, বাঁশের চারা, এবং ফলের গাছের একটি প্যাকেজ প্রদান করেছে। বসতভিটায় সবজির ফলন উৎপাদন বৃদ্ধিকে সিএলপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। কাজেই, এই কাজে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি পরিবার জৈব সার বিষয়ক প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেছে। পরিবারগুলোর জৈব সার উৎপাদন দ্বৈত ভূমিকা পালন করবেঃ প্রথমত, (গোবরকে সার হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে) তা পরিবারগুলোর সম্পত্তি থেকে প্রাপ্তি সর্বোচ্চ লাভ নিশ্চিত করবে; দ্বিতীয়ত, তা ব্যয়বহুল অজৈব সার ক্রয় এবং ব্যবহারের প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণ করবে।