Image
Image
Image
Image
পরিবেশগত বিপন্নতা কাটিয়ে ওঠা পিডিএফ প্রিন্ট কর ইমেল

একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি

বাংলাদেশ তিনটি প্রধান নদীর (গঙ্গা, ব্র‏হ্মপুত্র এবং মেঘনা)  প্রানি-ক প্লাবনসমভূমি বদ্বীপ (terminal floodplain delta) হওয়ার কারণে এখানে নাটকীয় এবং প্রায়শই বিধ্বংসী  বাৎসরিক বন্যার প্রবণতা রয়েছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম নদী যমুনা, ব্র‏হ্মপুত্রের প্রধান শাখা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সিএলপি প্রকল্প এলাকাতে যমুনা নদী অন্তত ৩.৫ কিলোমিটার।  বন্যার সময় অবশ্য নদীটি  দু'কূল প্লাবিত করে এর দ্বিগুণেরও বেশি প্রশস্ততা লাভ করে।

এসব এলাকার অধিবাসীরা কেবল বন্যাই নয়, নদীর ভাঙনের কারণেও বিপন্ন হয়ে পড়ে। কারণ নদীগর্ভে বালি এবং পলিমাটি জমে সৃষ্টি হওয়া চরাঞ্চলগুলো শেষ পর্যন্ত নদীর পানির প্রবল তোড় আর শক্তির কাছে পরাস্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। পরিবেশগত এই দুই উপদ্রবই এসব এলাকার অধিবাসীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বেঁচে থাকার দৈনন্দিন সংগ্রামের পাশাপাশি তাদেরকে মোটামুটিভাবে বৎসরান্তিক বন্যা - যার সম্পর্কে মোটামুাটভাবে আগাম ধারণা করা যায় এবং নদী ভাঙন - যা সম্পর্কে আগাম ধারণা করা সম্ভব নয়; এই দুই ধরনের বিপর্যয়ের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হয়।

একটি চরের গড় স্হায়িত্ব সাধারণত এক দশক ফলে এক প্রজন্মে প্রতিটি পরিবারকে নদী-ভাঙন এবং বন্যার কারণে অন্ততপক্ষে পাঁচবার বাস্তচ্যূত হতে হয়। নদী ভাঙনের কারণে কোনো চর পুরোপুরি ভাবে বিলীন না হয়ে গেলেও পরিবারগুলোকে প্রায়ই এক স্হান থেকে অন্য স্হানে চলে যেতে হয় কারণ চরের বিপুল এলাকা যমুনার বন্যার পানিতে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে ডুবে থাকে। গত ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যমুনা নদীর ভাঙন এবং পরিবর্তিত গতি সম্পর্কে ধারণা পেতে আমাদের চর বিষয়ক অংশ দেখুন।

চর অধিবাসী একটি পরিবার নদীতীরের যতো কাছে বাস করে পরিবারটির এ-ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের শিকার হওয়ার ঝুঁকি ততো বেড়ে যায় এবং সাধারণত দেখা গেছে চরম দরিদ্র পরিবারগুলোই নদীতীরে বাস করে। চর অধিবাসীরা কেবল বৎসরান্তিক বন্যা এবং ভাঙনের এলাকাতেই বাস করে না বরং সেই সঙ্গে তাদের দারিদ্র্যের মানে হচ্ছে তারা এসব আঘাত কাটিয়ে ওঠার নিরন্তর চেষ্টায় রত। হাতে কোনো জমানো টাকা বা নিরাপদ পানি না থাকায়, চর অধিবাসীদের জীবনে প্রায়শই বন্যার অর্থ হচ্ছে রূগ্ন্তস্বাস্হ্য এবং দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্যে উচ্চ হারে ধার করা।

বন্যা এবং নদী-ভাঙনজনিত বিপন্নতা হ্রাস করণঃ

পরিবারগুলোর বন্যাজনিত অসহায়ত্ব প্রশমিত করার জন্যে সিএলপি একটি  বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করেছে। প্রথমত, সিএলপি আনুমানিক ৫৫০,০০০ জন মানুষের আবাসস্হল ১১০,০০০ টি বসতভিটাকে বন্যার পানি পৌছোয় স্হানীয় এমন সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত উঁচু করার মাধ্যমে বন্যার সময় তাদের অন্যত্র গমন ও সম্পদহানির সম্ভাবনা হ্রাস করার পদক্ষেপ নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সিএলপি কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হচ্ছে পরিবারগুলোর ভ্রাম্যমাণ সম্পদের ভিত্তি তৈরি ও বহুমুখী করার মাধ্যমে বন্যা ও নদী- ভাঙনের মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতাবৃদ্ধি করা এবং তারা যাতে সারা বছর ধরে নিরাপদ পানি পেতে পারে তা নিশ্চিত করা ।