Image
Image
Image
Image
Image
Image
শিক্ষা ও স্বাস্হ্য সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো পিডিএফ প্রিন্ট কর

ভবিষ্যত পরিকল্পনা - সিএলপি-র স্বাস্হ্য ও শিক্ষা ইউনিট

সম্পদ হসতানতর, বসত ভিটা উচুঁকরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান ও অন্যান্য সহায়তার মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের সুযোগ প্রসারিত করাকে অধিকতর গুরুত্ব দিলেও সিএলপি স্বীকার করে যে দারিদ্র্য দূরীকরণে শিক্ষা ও উন্নত স্বাস্হ্য সেবা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

প্রাথমিক স্বাস্হ্য পরিচর্যা ও পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প

সিএলপি দারিদ্র্য দূরিকরণের জন্য যে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করেছে তারা যাতে অসুস্হতাজনিত বা স্বাস্হ্যগত কারনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্হ না হয় বা অর্থ সংকটে না ভোগে সেটা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চরবাসীকে কম খরচে স্বাস্হ্য সেবা প্রদানের উদ্যোগ একটি অন্যতম পদক্ষেপ। প্রাথমিক স্বাস্হ্য পরিচর্যা ও পরিবার পরিকল্পনা পাইলট প্রকল্প ২০০৮ সালের জানুয়ারী মাসে জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় ৩টি আইএমও (Implementing Organizations) এবং অন্য ২টি বেসরকারী সংস্হার মাধ্যমে প্রতি মাসে ২১২টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক পরিচালনার কার্যক্রম শুরু করে। এই পাইলট প্রকল্পটি প্রথম ৯ মাসে ২৭০০ এর বেশী  স্যাটেলাইট ক্লিনিক পরিচালনা করে এবং প্রায় ১৩৮,০০০ রোগীকে স্বাস্হ্য সেবা/চিকিৎসা প্রদান করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা যাঁরা গর্ভকালীন ও প্রসব পরবর্তী এবং পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা নিয়েছেন।

প্রাথমিক স্বাস্হ্য পরিচর্যা ও পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পের  আওতায় প্রতিটি স্যাটেলাইট ক্লিনিকে প্রশিক্ষিত ও যোগ্যতাসম্পন্ন  প্যারামেডিক্সদের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়  এই প্যারামেডিক্সরা স্যাটেলাইট ক্লিনিকে প্রাথমিক স্বাস্হ্য সেবা প্রদান করে এবং জটিল রোগে  আক্রানত রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূর্ব নির্ধারিত কোন ক্লিনিক বা হাসপাতালে পাঠান। এছাড়াও, এ প্রকল্পে চর থেকে নির্বাচিত ৪০০ জন প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেল্‌থ ভলান্টিয়ার আছে। তাদের কাছে সব সময় কিছু ঔষধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী থাকে এবং চরবাসীরা যে কোন সময় তাদের কাছ থেকে স্বাস্হ্য সেবা নিতে পারে। এই সেবাগুলো বিনামূল্যে দেয়া হয় না। পরামর্শ ও ব্যবস্হাপত্রের জন্য কমিউনিটি হেল্‌থ ভলান্টিয়ার অথবা স্যাটেলাইট ক্লিনিকে প্যারামেডিক্সকে ১০ টাকা নগদে অথবা প্রকল্পের আওতায় বিতরনকৃত ভাউচারের মাধ্যমে প্রদান করতে হয়। স্যাটেলাইট ক্লিনিক থেকে যে কেউ চিকিৎসা সেবা নিতে পারে যদিও কেবলমাত্র সিএলপি-এর মূল সুফলভোগীদেরকেই ভাউচার দেয়া হয়। কিছুদিন আগে পরিচালিত এক “রোগীর সনেতাষ্টি জরিপ'' এর ফল থেকে দেখা যে, ভাউচার ব্যবস্হা না থাকলে শতকরা ৮৯ ভাগ লোকই চিকিৎসা সেবা নিতে পারত না। এ থেকেই হত দরিদ্রদেরকে (সিএলপি-র মূল সুফলভোগী ) ভাউচার দেয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়।

কিছুদিন আগে সিএলপিভুক্ত সব কয়টি জেলায় প্রাথমিক স্বাস্হ্য সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পের কার্যক্রম সমপ্রসারণের লক্ষ্যে আরো ৫টি আইএমও-র সাথে চুক্তি করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে যে, এতে করে প্রতিমাসে ৮০০ স্যাটেলাইট ক্লিনিক পরিচালনা করা যাবে এবং ৩০,০০০ এর বেশী লোক চিকিৎসা সেবা পাবে।

সিএলপি-র শিশু শিক্ষা কেন্দ্র : উপানুষ্টানিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প

চরের অনেক শিশু তাদের পরিবারের আর্থিক দূরবস্হার কারনে অথবা খারাপ যাতায়াত ব্যবস্হার কারনে অথবা ঐ এলাকায় স্কুল না থাকার কারনে লেখাপড়া করতে পারছে না। এই কারনে চরবাসীর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গুনগত মান সম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হবে তাদেরকে সহায়তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ। এই বিষয়টি বিবেচনা করে চরে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সিএলপি ২০০৮ সালের শুরুর দিকে ১৫০টি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র খোলার লক্ষ্য নিয়ে একটি পরীক্ষামূলক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু করে। একটি কেন্দ্র গড়ে ৩০ জন শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ দিচ্ছে। চরে শিক্ষার সুযোগ কম থাকার একটি প্রধান কারণ হলো চরে থেকে কাজ করতে শিক্ষকদের অনীহা । এই সমস্যা দূর করার জন্য সিএলপি চর থেকে শিক্ষক নির্বাচন করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। যেহেতু বেশীর ভাগ চরবাসী আর্থিক দূরাবস্হার কারনে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারে না সেহেতু সিএলপি বই খাতা পেন্সিল/কলম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ও বছরে প্রতি ছাত্র-ছাত্রীকে  ২টি করে টি-শার্ট দিচ্ছে।

সিএলপি'র শিশু শিক্ষা কেন্দ্রগুলো ভর্তি হওয়া শিশুদেরকে ৪ বছর সময়ে ৬ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা (শিশু শ্রেণী ৫ম শ্রেণী) প্রদান করবে। কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন ৩ ঘন্টা করে সপ্তাহে ৫দিন পাঠদান করা হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০০ ছাত্র-ছাত্রী শিশু শ্রেণী শেষ করে প্রথম শ্রেণীতে উর্ত্তীন হয়েছে। সিএলপি সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের বাচ্চাদের এবং যারা তুলনামুলকভাবে একটু বয়স্ক (৮/৯ বৎসর), যারা পরবর্তীতে আর লেখাপড়ার সুযোগ পাবে না, তাদেরকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায় ৭০ ভাগ হচ্ছে অ-সুফলভোগী (Non beneficiary ) পরিবারের যা প্রমান করে যে সিএলপি'র উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্পের সুযোগ সবাই পাচ্ছে ।

শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত করার লক্ষে সিএলপি “ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট” নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করেছে যাদের মূল দাযিত্ব হচ্ছে এই প্রকল্পের সকল বিষয়ে বাসতবায়নকারী ৬টি সংস্হাকে অব্যাহত কারিগরী সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা। এখানে উল্লেখ্য যে ১৫০টি  শিক্ষা কেন্দ্রের ১৮টিতে জুলাই ,২০০৮ থেকে ২ শিফ্‌ট চালু করা হয়েছে।